
বেগুন চাষে মাটির ধরনঃ
প্রায় সব জেলার মাটিতে বেগুন ভালো জন্মায়।তবে হালকা এটেল মাটি থেকে হালকা বেলে মাটিতে বেগুনের চাষ ভালো হয়।আগাম জাতের বেগুন চাষের জন্য হালকা বেলে মাটি উপযোগী।তবে এই মাটিতে বেগুন চাষের জন্য প্রচুর পরিমানে জৈব সার সহ বেস কিচু রাসায়নিক সার দিতে হয়।অন্য মাটিতেও বেগুন ভালো হয় তবে মাটি উর্বর হতে হবে।
বেগুনের জাত নির্বাচন,,
বেগুনের জাত নির্বচন একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়।বাংলাদেশে বহু জাতের বেগুন দেখা যায়।মৌসম বেদে বেগুনের জাত নির্বাচন করা যেতে পারে।তাচাডা মাটির গুনাগুন বিবেচনায় বেগুনের জাত নির্বাচন করতে হয়।নিচে কয়েটি বেগুনের জাত নিয়ে আলোটনা করা হলো।
ইসলামপুরীঃএটি একটি শীত কালীন বেগুনের জাত।গাছ সাধারনত মাঝারি ধরনের হয়।গাছে কাটা থাকেনা।ফলেও কাটা থাকেনা।শীতকালে ভালো ফলন হয়ে থাকে।প্রতিটি বেগুনের ওষন ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম।হেক্টর প্রতি ফল হয় ৩৬ টন।প্রতিটি গাচে বেগুন ধরে ১৩ টি করে।
ঈশ্বরদী ১ঃ এটিও শীতকালীন বেগুন তবে অন্য সময়ও ভালো ফলন হয়ে থাকে।এই জাতের বেগুনে পোকার আক্রমন কম হয়ে থাকে।সব ধরনের মাটিতেই ভালো ফলন দিতে পারে এই জাতটি।প্রতিটি বেগুনেন ওজন ১৫০ থেকে ২৫০ এর মধ্যে হয়ে থাকে।হেক্টর প্রতি ফলন হয়ে থাকে ২২ টন।
ঝুমকোঃএটি একটি পরিচিত বেগুনের জাত।সব সময় এটি ভালো ফলন দিতে পারে।গাছ হালকা মাজারি আকৃতির হয়ে থাকে বেগুনের সবচে পরিচিত পোকা নাম মাঝরা পোকা।এই জাতটিতে মাঝরা পোকার আক্রমন হয় না বললেই চলে।এই বেগুন খাটো আকৃতির হয়।৮ থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্ব হয়।
প্রয়োজনীয় সার
বেগুন চাষে সার প্রয়োগ করতে হয় নিয়ম ও সময় মেনে। বেগুন চাষে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতি হেক্টর জমিতে টিএসপি (TSP)দিতে হয় ১৪৫ থেকে ১৫৫ কেজি,ইউরিয়া ৩৭০ থেকে ৩৮০ কেজি দিতে হয়,এমপি (MP) ২৪০ থেকে ২৬০ কেজি এবং গোবর সার ৬ থেকে ১০ টন হারে দিতে করতে হবে।
সার প্রয়োগের নিয়মঃ
চারা বা বীজ রোপনের আগে অর্ধক গোবর স্যার দিয়ে পেলুন,এবং ইউরিয়া ও এমপি সার তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করোন। রোপণের ২১ থেকে ৩৫ ও ৫০ দিন পর প্রয়োগ করার উত্তম সময়
পোকার আক্রমনঃবেগুনে বিভিন্ন পোকার আক্রমন দেখা যায় তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পোকার আক্রমন হলো ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা।
ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকাঃ

লক্ষনঃ
পাখায় বাদামী দাগযুক্ত সাদা রঙের স্ত্রী মথ কচি ডগা, ফুল, কুঁড়ি এবং ফলের বৃতিতে একটি একটি করে ডিম পাড়ে।
ডিম ফুটে লালচে গোলাপী রঙের কীড়া ফুল, কুঁড়ি, কচি ডগা ও বৃতি ছিদ্র করে ভিতরে ঢোকে।
আক্রান্ত ফল থেকে কীড়া বের হয়ে মাটিতে পুত্তলী অবস্থায় থাকে।
ক্ষতির ধরনঃ
কীড়া, কুঁড়ি, পাতার বোটা, কচি ডগা ইত্যাদি ছিদ্র করে খেতে খেতে ভিতরে ঢুকে সুড়ঙ্গ তৈরি করে।
সুড়ঙ্গ সৃষ্টি করার ফলে কচি ডগা ঢোলে পড়ে এবং অবশেষে মারা যায়।
একই ভাবে ফল ছিদ্র করে ভিতরে ঢোকে ও শাঁস খায়।
আক্রান্ত ডগা শুকিয়ে যায় এবং পাশ থেকে শাখা-প্রশাখা উৎপন্ন হয়।
বেগুন কাটলে ভিতরেও পোকার মল ও পচা সুড়ঙ্গের চিহ্ন থাকে।
রাসায়নিক পদ্ধতিতে দমনঃ
রিলোড ১৮ এস সি ৫ মিলি প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।
অথবা ফাইটার ২.৫ ই সি ১৫ মিলি প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।
অথবা কট্ ১০ ই সি ১০ মিলি প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।
অথবা কেয়ার ৫০ এস পি ১২ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।
অথবা প্রোটেক্ট ৫০ এস জি ১০ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।
এছাড়াও আপনাদের বেগুনে অন্য কোন পোকার আক্রমন দেখলে কমেন্ট করে যানাতে পারেন।আমরা খুব দ্রুত সমাধান দেওয়ার চেস্টা করবো।
NSBDNEWS
nsbd.news.blog
MD NAZMUL HASAN
STUDENTS AGRICULTURE INSTITUTE HOMNA COMILLAM MOVILE 01636324208