কম্পস্ট সার তৈরীর সহজ নিয়ম।

কম্পোস্ট তৈরির উপাদান

যেসব উপাদান দিয়ে কম্পোস্ট তৈরি করা যায়, তা হলো-

ফসলের অবশিষ্টাংশ
কচুরীপানা
সবজি বা ফলের খোসা
আগাছা
বসতবাড়ির ময়লা আবর্জনা ও
খড়কুটা
স্তূপ পদ্ধতিতে কম্পোস্ট তৈরি

বসতবাড়ির আশপাশে, ক্ষেতের ধারে অথবা পুকুর বা ডোবার কাছে স্তূপ পদ্ধতিতে কম্পোস্ট তৈরি করা যায়। এজন্য খেয়াল রাখতে হবে, যেন স্থানটি বেশ উঁচু হয়, যাতে সেখানে বর্ষার পানি জমে না থাকে। এ ধরনের উঁচু স্থান যদি গাছের ছায়ার নিচে হয় এবং সেখানে স্তূপ করা যায় তাহলে খুবই ভালো কম্পোস্ট তৈরি করা যায়। কারণ গাছের ছায়া রোদ বৃষ্টি প্রতিরোধ করবে এবং জৈব পদার্থের পচন ক্রিয়ায় সাহায্য করবে। বর্ষাকালে অথবা যেসব এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি, সেসব এলাকায় স্তূপ পদ্ধতিতে তৈরি কম্পোস্ট বেশ কার্যকর। গ্রাম বাংলায় এ পদ্ধতিকে গাদা পদ্ধতি বলা হয়।

তৈরির নিয়ম

কম্পোস্ট তৈরির জন্য প্রথমে ৩-৪ দিনের শুকনো কচুরিপানা ও অন্যান্য আবর্জনা ফেলে ১৫ সেমি. পুরু স্তর সাজাতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাজা বা সবুজ কচুরিপানা ব্যবহার উচিত নয়, এতে পটাশ ও নাইট্রোজেনের উপাদান নষ্ট হয়। কচুরিপানা বেশি লম্বা হলে তা ১৫ সেমি. করে কেটে ব্যবহার করতে হবে।
এরপর এ স্তরের ওপর ২০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ২০০ গ্রাম টিএসপি সার ছিটিয়ে দেয়া ভালো। এতে পচনক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
সার ছিটানোর পর স্তরের ওপর ২.৫০-৫.০০ সেমি. পুরু করে গোবর এবং কাদা মাটির একটি প্রলেপ দিতে হবে। এর ফলে স্তরের ভেতর জীবাণুর ক্রিয়া বেড়ে যাবে এবং দ্রুত পচন কাজ সম্পন্ন হবে। এভাবে ১.২৫ মি. উঁচু না হওয়া পর্যন্ত বারবার ১৫ সেমি. পুরু করে শুকনো কচুরিপানা, আবর্জনা, খড়কুটো দিয়ে স্তর সাজাতে হবে এবং ২.৫০-৫.০০ সেমি. পুরু করে গোবর ও কাদা মাটি দিয়ে লেপে দিতে হবে। গাদা তৈরি শেষ হলে এর উপরিভাগ মাটি দিয়ে লেপে দিতে হবে এবং সম্ভব হলে কম্পোস্ট স্তূপের ওপর ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
স্তূপ বা গাদা তৈরির কাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর একটি শক্ত কাঠি গাদার মাঝখানে ভিতরের দিকে দিয়ে স্তরগুলো অতিরিক্ত ভেজা কিনা তা দেখে নিতে হবে। যদি ভেজা থাকে, তাহলে শক্ত কাঠি দিয়ে গাদার উপর থেকে মাঝে মাঝে ছিদ্র করে দিতে হবে, যাতে বাতাস ভিতরে ঢুকতে পারে। এরপর গাদার ভিতরের অংশ শুকিয়ে গেলে ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে গাদা যেন অতিরিক্ত শুকিয়ে না যায়। যদি অতিরিক্ত শুকিয়ে যায়, তাহলে ছিদ্র পথে পানি বা গো-চনা ঢেলে গাদাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।পর্যাপ্ত পরিমানে গোবর, গো-চনা এবং ইউরিয়া গাদাতে ব্যবহার করা হলে স্তূপ তৈরির প্রায় ৩ মাসের মধ্যে তৈরি কম্পোস্ট জমিতে ব্যবহারের উপযুক্ত হবে। আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে যদি কম্পোস্ট গুঁড়া হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে তা জমিতে ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে।
কম্পোস্ট ব্যবহারের উপকারিতা

১. মাটির পুষ্টিমান বৃদ্ধি পায় ও মাটি সমৃদ্ধ হয়।

২. বেলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং পুষ্টি উপাদান যুক্ত হয়।

৩. এটেল মাটি ঝুরঝুরে হয় ও এর বায়ুচলাচল বৃদ্ধি পায়।

৪. সবজি ফসলে মালচিং এর কাজ করে।

৫. ভূমিক্ষয় রোধ করতে সহায়তা করে।

৬. মাটিতে উপকারী অনুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে।

৭. মাটির পি-এইচ বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মান নিরপেক্ষ রাখতে সহায়তা করে।

৮. পট অথবা টবের মাটির সহিত কম্পোস্ট ব্যবহার করে চারা রোপন করা হয়।

কুইক কম্পোস্ট প্রস্তুত প্রণালী

কুইক কম্পোস্ট অল্প সময়ে অর্থাৎ মাত্র ১৫ দিনে তৈরি ও ব্যবহার উপযোগী উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন একটি জৈব সার।

কুইক কম্পোস্ট তৈরির উপাদান

সরিষার খৈল, কাঠের গুঁড়া বা চাউলের কুঁড়া ও অর্ধপঁচা (ডিকম্পোজড) গোবর বা হাঁস মুরগির বিষ্ঠা যার অনুপাত হবে ১ : ২ : ৪ অর্থাৎ একভাগ খৈল + দুইভাগ কাঠের/চাউলের কুঁড়া + চারভাগ গোবর/হাঁস-মুরগীর বিষ্ঠা।

কুইক কম্পোস্ট তৈরির পদ্ধতি

গুঁড়া করা সরিষার খৈল, চাউলের কুঁড়া / কাঠের গুঁড়া ও ডিকম্পোজড গোবর ভালভাবে মিশাতে হবে।
মিশ্রনে পরিমান মত পানি যোগ করে এমনভাবে কাই বানাতে হবে যাতে ঐ মিশ্রণ দিয়ে কম্পোস্ট বল তৈরি করলে ভেঙ্গে যাবেনা কিন্তু ১ মিটার উপর থেকে ছেড়ে দিলে তা ভেঙ্গে যাবে।
মিশ্রিত পদার্থগুলো স্তূপ করে এমন ভাবে রেখে দিতে হবে যাতে ভিতরের জলীয় বাষ্প বের হতে না পারে আর এ কারণে পচনক্রিয়া সহজতর হয়। স্তূপটির পরিমান ৩০০- ৪০০ কেজির মধ্যে হওয়া ভাল। স্তূপের সমসত্ব উপাদান একবারে না মিশিয়ে ৩/ ৪ বারে মিশাতে হবে।
শীতকালে স্তূপের উপরে ও চারদিকে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। আর বর্ষাকালে বৃষ্টির জন্য পলিথিন সীট ব্যবহার করতে হবে এবং বৃষ্টি থেমে গেলে পলিথিন সরিয়ে ফেলতে হবে।
স্তূপ তৈরির ২৪ ঘন্টা পর থেকে স্তূপের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং ৪৮-৭২ ঘন্টার মধ্যে ৬০-৭০ সেঃ তাপমাত্রায় পৌছায়। অর্থাৎ স্তূপে তখন আঙ্গুল ঢোকালে অসহনীয় তাপমাত্রা অনুভূত হবে (৬০-৭০ সেঃ)। যার ফলে সৃষ্ট তাপে মিশ্রিত পদার্থ পুড়ে নষ্ট হতে পারে। তাই স্তূপ ভেঙ্গে উলট – পালট করে ১ ঘন্টা সময়ের জন্য মিশ্রনকে ঠান্ডা করে নিতে হবে এবং পুনরায় পূর্বের ন্যায় স্তূপ করে রাখতে হবে।
এভাবে ৪৮-৭২ ঘন্টা পর পর স্তূপ ভেঙ্গে উলট- পালট করতে থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত উন্নত মিশ্র জৈব সার জমিতে প্রয়োগের উপযোগী হবে। সার তৈরি হলে তা ঝুরঝুরে শুকনা হবে এবং কালো বাদামি বর্ণের হবে।
প্রয়োগমাত্রা

১। জমির উর্বরতা ও ফসলভেদে প্রতি শতাংশে প্রায় ৬-১০ কেজি কুইক কম্পোস্ট সার ব্যবহার করতে হয়। ফসলের জমি তৈরির সময়ে প্রতি শতাংশে ৬ কেজি এবং ধান চাষের ক্ষেত্রে কুশি পর্যায়ে সেচের পূর্বে ২ কেজি করে উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

২। সবজি ফসলের ক্ষেত্রে জমি তৈরীর সময়ে প্রতি শতাংশে ৬ কেজি এবং ৪ কেজি সার রিং বা নালা করে সবজি বেডে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। সার প্রয়োগের পর সেচ দিতে হয়।

পুষ্টিমান ও ব্যবহারের উপকারিতা

কুইক কম্পোস্ট সারে নাইট্রোজেন – ২.৫৬%, ফসফরাস -০.৯৮%, ও পটাশিয়াম- ০.৭৫% পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও কিছু গৌণ খাদ্য উপাদান থাকে। কুইক কম্পোস্ট সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে বাতাস চলাচল বৃদ্ধি পায়, অনুজীবের ক্রিয়া বাড়তে থাকে, ফসলের প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য উপাদান সহজলভ্য হয়। ফলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় এ

বেগুনের ডগা ও ফল চিদ্রকারী পোকার স্থাইভাবেস সমাধ

বেগুন চাষ

বেগুন চাষে মাটির ধরনঃ

প্রায় সব জেলার মাটিতে বেগুন ভালো জন্মায়।তবে হালকা এটেল মাটি থেকে হালকা বেলে মাটিতে বেগুনের চাষ ভালো হয়।আগাম জাতের বেগুন চাষের জন্য হালকা বেলে মাটি উপযোগী।তবে এই মাটিতে বেগুন চাষের জন্য প্রচুর পরিমানে জৈব সার সহ বেস কিচু রাসায়নিক সার দিতে হয়।অন্য মাটিতেও বেগুন ভালো হয় তবে মাটি উর্বর হতে হবে।

বেগুনের জাত নির্বাচন,,

বেগুনের জাত নির্বচন একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়।বাংলাদেশে বহু জাতের বেগুন দেখা যায়।মৌসম বেদে বেগুনের জাত নির্বাচন করা যেতে পারে।তাচাডা মাটির গুনাগুন বিবেচনায় বেগুনের জাত নির্বাচন করতে হয়।নিচে কয়েটি বেগুনের জাত নিয়ে আলোটনা করা হলো।

ইসলামপুরীঃএটি একটি শীত কালীন বেগুনের জাত।গাছ সাধারনত মাঝারি ধরনের হয়।গাছে কাটা থাকেনা।ফলেও কাটা থাকেনা।শীতকালে ভালো ফলন হয়ে থাকে।প্রতিটি বেগুনের ওষন ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম।হেক্টর প্রতি ফল হয় ৩৬ টন।প্রতিটি গাচে বেগুন ধরে ১৩ টি করে।

ঈশ্বরদী ১ঃ এটিও শীতকালীন বেগুন তবে অন্য সময়ও ভালো ফলন হয়ে থাকে।এই জাতের বেগুনে পোকার আক্রমন কম হয়ে থাকে।সব ধরনের মাটিতেই ভালো ফলন দিতে পারে এই জাতটি।প্রতিটি বেগুনেন ওজন ১৫০ থেকে ২৫০ এর মধ্যে হয়ে থাকে।হেক্টর প্রতি ফলন হয়ে থাকে ২২ টন।

ঝুমকোঃএটি একটি পরিচিত বেগুনের জাত।সব সময় এটি ভালো ফলন দিতে পারে।গাছ হালকা মাজারি আকৃতির হয়ে থাকে বেগুনের সবচে পরিচিত পোকা নাম মাঝরা পোকা।এই জাতটিতে মাঝরা পোকার আক্রমন হয় না বললেই চলে।এই বেগুন খাটো আকৃতির হয়।৮ থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্ব হয়।

প্রয়োজনীয় সার

বেগুন চাষে সার প্রয়োগ করতে হয় নিয়ম ও সময় মেনে। বেগুন চাষে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতি হেক্টর জমিতে টিএসপি (TSP)দিতে হয় ১৪৫ থেকে ১৫৫ কেজি,ইউরিয়া ৩৭০ থেকে ৩৮০ কেজি দিতে হয়,এমপি (MP) ২৪০ থেকে ২৬০ কেজি এবং গোবর সার ৬ থেকে ১০ টন হারে দিতে করতে হবে।

সার প্রয়োগের নিয়মঃ

চারা বা বীজ রোপনের আগে অর্ধক গোবর স্যার দিয়ে পেলুন,এবং ইউরিয়া ও এমপি সার তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করোন। রোপণের ২১ থেকে ৩৫ ও ৫০ দিন পর প্রয়োগ করার উত্তম সময়

পোকার আক্রমনঃবেগুনে বিভিন্ন পোকার আক্রমন দেখা যায় তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পোকার আক্রমন হলো ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা।

ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকাঃ

লক্ষনঃ

পাখায় বাদামী দাগযুক্ত সাদা রঙের স্ত্রী মথ কচি ডগা, ফুল, কুঁড়ি এবং ফলের বৃতিতে একটি একটি করে ডিম পাড়ে।
ডিম ফুটে লালচে গোলাপী রঙের কীড়া ফুল, কুঁড়ি, কচি ডগা ও বৃতি ছিদ্র করে ভিতরে ঢোকে।
আক্রান্ত ফল থেকে কীড়া বের হয়ে মাটিতে পুত্তলী অবস্থায় থাকে।

ক্ষতির ধরনঃ
কীড়া, কুঁড়ি, পাতার বোটা, কচি ডগা ইত্যাদি ছিদ্র করে খেতে খেতে ভিতরে ঢুকে সুড়ঙ্গ তৈরি করে।
সুড়ঙ্গ সৃষ্টি করার ফলে কচি ডগা ঢোলে পড়ে এবং অবশেষে মারা যায়।
একই ভাবে ফল ছিদ্র করে ভিতরে ঢোকে ও শাঁস খায়।
আক্রান্ত ডগা শুকিয়ে যায় এবং পাশ থেকে শাখা-প্রশাখা উৎপন্ন হয়।
বেগুন কাটলে ভিতরেও পোকার মল ও পচা সুড়ঙ্গের চিহ্ন থাকে।

রাসায়নিক পদ্ধতিতে দমনঃ
রিলোড ১৮ এস সি ৫ মিলি প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।
অথবা ফাইটার ২.৫ ই সি ১৫ মিলি প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।
অথবা কট্‌ ১০ ই সি ১০ মিলি প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।
অথবা কেয়ার ৫০ এস পি ১২ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।
অথবা প্রোটেক্ট ৫০ এস জি ১০ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।

এছাড়াও আপনাদের বেগুনে অন্য কোন পোকার আক্রমন দেখলে কমেন্ট করে যানাতে পারেন।আমরা খুব দ্রুত সমাধান দেওয়ার চেস্টা করবো।

NSBDNEWS
nsbd.news.blog

MD NAZMUL HASAN
STUDENTS AGRICULTURE INSTITUTE HOMNA COMILLAM MOVILE 01636324208

খাদ্য তালিকায় বিপ্লব ঘটাবে সাদা ভুট্টা

সাদ ভুট্টা

আমাদের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় ধান ও গমের প্রাধান্যই বেশি। তাই ধান ও গমের উপর চাপও অনেক বেশি। প্রতিনিয়ত দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দেশে আবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা। এই বর্ধিত জনসংখ্যার ধান ও চালের চাপ কমাতে পারে সাদা ভুট্টা।

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও ধান চালের ওপর চাপ কমাতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাফর উল্লাহ তিন বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। সাদা ভুট্টা খেতে সুস্বাদু এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ। আটা হলুদ ভুট্টার চেয়ে মিহি হওয়ায় পৃথিবীর বহু দেশে সাদা ভুট্টা প্রধান খাদ্য হিসেবে সমাদৃত।

সাদা ভুট্টা থেকে পরোটা, নানরুটি, পিঁয়াজু, সবজি পাকোড়া, চিকেন রোল, শর্মা, মিষ্টি তেলপিঠা, কেক, পাস্তা, জিলাপিসহ মুখরোচক সব খাবার তৈরি হয়। আবার চাল ও গমের আটার খাবারের তুলনায় এতে পুষ্টিগুণও কম নয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেশি। সেই সুবাদে টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিবেচনায় এসব খাবার হয়ে উঠতে পারে ধান-গমের বিকল্প।

বিজ্ঞানীদের মতে, এ দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার করতে ধান ও গমের পাশাপাশি সাদা ভুট্টার ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলে ভাতের ওপর চাপ কমবে। গম আমদানির পরিমাণও কমবে। আর সে জন্য যথাযথ প্রচার ও পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

পৃথিবী জুড়ে পশু-পাখির খাদ্য হিসেবে হলুদ ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে মানুষের খাবার হিসেবে সাদা ভুট্টার উপযোগিতা অনেক। এর বাজারমূল্যও হলুদ ভুট্টার চেয়ে অনেক বেশি। সাদা ভুট্টায় স্নেহ ও আমিষের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি থাকে। এর তেল উন্নত দেশে বহুল ব্যবহৃত। বিশেষ করে সাদা ভুট্টা দিয়ে তৈরি করা যায় হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার। 

অধ্যাপক ড. মো. জাফর উল্লাহ বলেন, খাদ্য হিসেবে ধান-গমের বিকল্প হিসেবে সাদা ভুট্টা গ্রহণ করা যেতে পারে। পুষ্টিমান বিবেচনায় অনেকাংশে চালের চেয়ে সাদা ভুট্টা ভালো। প্রতি ১০০ গ্রাম সাদা ভুট্টায় চালের চেয়ে আমিষের পরিমাণ ১.৪৮ গ্রাম বেশি রয়েছে। এছাড়া চর্বি ১.৮২ গ্রাম, লৌহ ১.২৪ গ্রাম, জিংক ০.১৯ গ্রাম, পটাসিয়াম ৬৪ গ্রাম এবং সোডিয়াম ২৮ গ্রাম বেশি রয়েছে। অন্যান্য গুণাগুণও প্রায় চালের কাছাকাছি। তাই সাদা ভুট্টা চালের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে ভালো বিকল্প হতে পারে।

পরোটা

পরোটা তৈরিতে প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো- সাদা ভুট্টার আটা ১ কাপ, গমের ময়দা ২ কাপ, গুঁড়াদুধ ১ টেবিল চামচ, ইস্ট আধা চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি ১ চা চামচ, ভোজ্য তেল আধা চা চামচ। প্রস্তুত করতে একটি পরিষ্কার পাত্রে সাদা ভুট্টার আটা, ময়দা, গুঁড়াদুধ ও লবণ মেশাতে হবে। সিকি কাপ তেল দিয়ে মাখাতে হবে। এরপর ১ কাপ পানি দিয়ে খামির তৈরি করতে হবে। খামিরটুকু ৮-১০টি ভাগ করতে হবে। প্রতিটি অংশ গরম তাওয়ায় সেঁকে প্রস্তুত করতে হবে একেকটি পরোটা।

নানরুটি

প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো- সাদা ভুট্টার আটা ১ কাপ, গমের ময়দা ২ কাপ, চিনি ২ চা চামচ, ইস্ট ২ চা চামচ, দুধ ১ কাপ, পানি ১ কাপ, ভোজ্য তেল ২ টেবিল চামচ, গুঁড়াদুধ দেড় টেবিল চামচ ও লবণ স্বাদমতো। প্রস্তুত করতে পরিষ্কার পাত্রে মৃদু গরম পানিতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর উপাদানগুলো ভালোভাবে মাখাতে হবে। ইস্ট মিশ্রিত পানি ও দুধ মিশিয়ে ১০ মিনিট মথে নিতে হবে। এরপর তেল দিয়ে খামির তৈরি করতে হবে। বাতাস যেন না লাগে এমন জায়গায় খামির ভেজা কাপড় দিয়ে তিন-চার ঘণ্টা ঢেকে রাখতে হবে। খামির ফুলে উঠতেই আবারও মথে নিতে হবে। এবার খামির খাটি ১০-১২ ভাগ করে একেকটি ১০ সেন্টিমিটার পুরু করে রুটি বেলতে হবে। এরপর তাওয়ায় সেঁকে মাখন লাগালেই হয়ে যাবে সুস্বাদু নানরুটি।

পিঁয়াজু

সাদা ভুট্টার আটা আধা কাপ, চালের গুঁড়া আধা কাপ, ডালের বেসন আধা কাপ, পিঁয়াজ কুচি আধা কাপ, চারটি কাঁচা মরিচ কুচি, আদা বাটা আধা চামচ, হলুদ আধা চা চামচ, ধনিয়া ১ চা চামচ, কালিজিরা ১ চা চামচ, তেল ও লবণ পরিমাণমতো মিশিয়ে আঠালো করে মেখে নিতে হবে। গরম তেলে এপিঠ-ওপিঠ করে ভাজলেই প্রস্তুত হবে মচমচে পিঁয়াজু।

সবজি পাকোড়া

পছন্দমতো সবজি চাকা চাকা করে কেটে নিতে হবে। পরিষ্কার পাত্রে সাদা ভুট্টার আটা ও চালের গুঁড়া তিন টেবিল চামচ করে, ডালের বেসন ৫ টেবিল চামচ, টেম্পুরা পাউডার ১ টেবিল চামচ, আদা ও হলুদ আধা চা চামচ, কালিজিরা ১ চা চামচ এবং প্রয়োজনমতো লবণ ও পানি নিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে। এরপর সবজির চাকগুলো ওই মিশ্রণে ডুবিয়ে গরম তেলে ভেজে ট্রেতে ন্যাপকিন পেপারে রাখতে হবে।

চিকেন রোল

সাদা ভুট্টার ২ কাপ আটা, আধা কাপ ময়দা, দুটি ডিম ও তেল ২ কাপ নিতে হবে চিকেন রোল বানাতে। সব উপাদান পরিষ্কার পাত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে তৈরি করে দুই ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। একটি ননস্টিক ১৫ সেন্টিমিটার তাওয়ায় পাতলা কাপড়ের টুকরো হালকা তেলে ভিজিয়ে লাগিয়ে নিতে হবে। উনুনে তাওয়া গরম করে চামচ গোলা দিয়ে রুটির মতো সেঁকে নিতে হবে। এরপর সেই রুটি দিয়ে বানাতে হবে রোল। এই পরিমাণ গোলায় ৪০টি রোল তৈরি করা যেতে পারে।

তেলপিঠা

তেলপিঠা বানাতে ২ কাপ সাদা ভুট্টার আটা, ১ কাপ ময়দা, আধ কাপ বেকিং পাউডার মিশিয়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেলে বাদামি করে ভেজে নিতে হবে।

কেক

কেক তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো- আধা কাপ ময়দা, আধা কাপ সাদা ভুট্টার আটা, ডিম ২টি, চিনি ২ কাপ, তেল আধা কাপ, দুধ আধা কাপ, বেকিং সোডা আধা চা চামচ ও কোকা পাউডার দেড় চা চামচ।

এছাড়াও নানা ধরনের খাবার তৈরিতে সাদা ভুট্টার ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে।

আলু ক্ষেতে মিষ্টি কুমড়া চাষ

আলু ক্ষেত

আলু ক্ষেতে মিষ্টি কুমড়া চাষ

একই জমিতে একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে ২ টি বা ৩ টি ফসল চাষ করলে একদিকে যেমন বাড়তি ফসল থেকে বাড়তি লাভ হয়, তেমনি কোন একটি ফসলের ক্ষতি হলেও অন্যোন্য ফসলের উৎপাদন দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।আজ কৃষকরা একই জমিতে একই সঙ্গে দু-তিনটি ফসল চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন। আলু ক্ষেতে মিষ্টি কুমড়া চাষ সে প্রচেষ্টারই দৃষ্টান্ত। নীচে আলুর সঙ্গে মিষ্টি কুমড়া চাষ পদ্ধতি আলোচনা করা হলো-

জমি ও মাটি

আলু চাষাবাদের জন্য উঁচু জমি উত্তম। কারণ এ ধরনের জমিতে পানি থাকে না। বেলে-দোআঁশ বা দোআঁশ মাটিতে আলুর ফলন ভালো হয়। মিষ্টি কুমড়া চাষের জন্য একই ধরণের জমি ও মাটি প্রয়োজন।

আলু বপন

আলুর ফলন ভালো পেতে হলে ডিসেম্বর জমি ভালো করে জমি চাষ-মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। প্রয়োজনীয় মাত্রার সার দিয়ে আলুবীজ বপন করতে হবে। এবার গাছের উচ্চতা ৬ সেমি হলেই নিড়ানি দিয়ে কান্দি দিতে হবে।

মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন

আলুর বপনকাজ শেষ করার ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করতে হবে। সেচ দেওয়ার জন্য আলুর দুই কান্দির মাঝে সামান্য উঁচু করে মাদা তৈরি করে নিতে হবে। দুই কান্দির মাঝে ৪ থেকে ৫ হাত দূরে মিষ্টি কুমড়ার মাদা তৈরি করে নিতে হবে। মাদা কান্দির চেয়েও সামান্য উঁচু হবে। প্রতিটি মাদায় ৪ থেকে ৬টি বীজ পুঁতে বপন করতে হবে। এভাবে প্রতি শতাংশ জমিতে ১৭ থেকে ২০টি মাদা তৈরি করতে হবে।

আলু ওঠানোর সময়

আলু ওঠানোর সময়

আলু ফেব্রুয়ারী মাসে উঠানো যাবে। এ সময় বেড়ে ওঠা মিষ্টি কুমড়ার গাছ বেশি লম্বা হয়। তখন মিষ্টি কুমড়ার গাছগুলো পেঁচিয়ে গোল করে রেখে দিতে হবে। দু-একদিনে জমি থেকে আলু ওঠানোর কাজ শেষ হলে মিষ্টি কুমড়ার গাছগুলো পেঁচানো অবস্থা থেকে এদিক ওদিক ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে গাছ চারপাশে সমানভাবে বাড়তে থাকবে। মিষ্টি কুমড়া গাছ ছড়িয়ে দেওয়ার সময় যাতে গাছগুলো ছিড়ে না যায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আলু ওঠানোর পর

ক্ষেত থেকে আলু ওঠালে এমনিতেই মাটি মোটামুটি সমান হয়ে যায়। তবুও কোথাও উঁচু-নিচু তা হাত দিয়ে কিংবা কোদাল দিয়ে সমান করে দিতে হবে, যাতে সমান করে দেওয়া মাটিতে মিষ্টি কুমড়ার গাছ সহজেই বাড়তে পারে। আলু ওঠানোর পর জমির মাটির রস শুকিয়ে যায়। তখন রসের অভাব পূরণে সেচ দিতে হবে। জমিতে সেচ দেওয়ার পর গাছের গোড়ায় প্রতিটি মাদার জন্য ১০০ গ্রাম টিএসপি, ৫০ গ্রাম ইউরিয়া গোলাকার নালা করে দিতে হবে। গাছে সার যেন না লাগে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এরপরও গাছের বৃদ্ধি কম হলে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরপর এক থেকে দুবার একই পরিমাণ ইউরিয়া সার গাছের চারপাশে নালা করে দিতে হবে।

মিষ্টি কুমড়ার  যত্ন

মিষ্টি কুমডার যত্ন।

গাছ বড় হলে গাছে ফুল আসতে থাকে। ফুল আসার সময় কোনো ধরণের কীটনাশক প্রয়োগ করা যাবে না। কারণ এ সময় বিভিন্ন ধরণের কীটপতঙ্গ ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ায় এবং পরাগায়ন ঘটায়। যেসব মিষ্টি কুমড়া ক্ষেতে কীটপতঙ্গের সংখ্যা বেশি থাকে সেসব ক্ষেতে কুমড়ার সংখ্যাও বাড়ে। জানা থাকলে পুরুষ ফুলগুলোর পরাগরেণু স্ত্রী ফুলের গর্ভদন্ডে মাখিয়ে দিতে হবে। তবে বেশি ঠান্ডা বা শীত পড়লে এসবের প্রয়োজন পড়ে না। পুরুষ ফুলের মধ্য থেকে একটি শীষ বের হয়, যার দেহে অসংখ্য হলুদ রঙের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানা থাকে। আর স্ত্রী ফুলের মধ্য থেকে বের হওয়া দন্ডটির মাথা চার ভাগে বিভক্ত থাকে। এ দুটি লক্ষন দেখে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল চেনা যায়। মিষ্টি কুমড়া একটু বড় হতে থাকলে কুমড়ার নিচে খড়, আলুর শুকিয়ে যাওয়া গাছ ও কাপড় দিয়ে বেঁধে দিলে কুমড়া মাটিতে থাকলেও পচবে না। এ সময় কুমড়ার মাছি পোকা হতে পারে। মাছি পোকা হলে ১০ বর্গমিটার দূরে দূরে বিষটোপ রাখা যেতে পারে। এভাবে আলু ক্ষেতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করলে প্রতি বিঘায় ৮০০ থেকে ৯০০টি মিষ্টি কুমড়া পাওযা যাবে।

তাবলিগ জামাতের ১০ বাংলাদেশি ভারতে আটক

ভারতের দিল্লিতে নিজামুদ্দিন এলাকার তাবলিগ জামাতের মারকাজ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ওই সমাবেশে অংশ নেওয়া দুইশরও বেশি বিদেশিকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে ছিলেন ৭৩ জন বাংলাদেশি। এই ৭৩ জনের ১০ জন কোয়ারেন্টিন (সঙ্গনিরোধ) শেষে মধ্য প্রদেশের শিওপুর শহরে যাওয়ার পর স্থানীয় পুলিশের হাতে আটক হন। বাকি ৬৩ জনের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত মঙ্গলবার শিওপুরে আটক ১০ তাবলিগ জামাত সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কোনো তথ্য না জানিয়ে মধ্য প্রদেশের শহরটিতে অবস্থান করছিলেন। ভারত সরকার এরই মধ্যে তাবলিগের সমাবেশে অংশ নেওয়া ৯৬০ জন বিদেশিকে কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের ভিসা বাতিল করেছে। আটক ১০ বাংরাদেশিও ওই তালিকায় রয়েছেন।

বুধবার শিওপুরের পুলিশ সুপার সম্পাত উপাধ্যায়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএনআই এবং নিউজ১৮ এ খবর জানায়।
নিউজ১৮ এর খবরটিতে বলা হয়েছে, নিজামুদ্দিন এলাকার মারকাজে (তাবলিগের প্রধান কেন্দ্র) অংশ নেওয়া ১২ জনকে গত মঙ্গলবার আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন কলকাতার এবং বাকি ১০ জন বাংলাদেশের বাসিন্দা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অবস্থানের অভিযোগে মূলত এদের আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তাবলিগ জামাতের মধ্য প্রদেশের তিন বাসিন্দাকেও আটক করা হয়েছে।

সম্পাত উপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ১০ এবং কলকাতা তাবলিগ জামাতের দুই সদস্যের নমুনা পরীক্ষার পর তাদের দেহে আর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চিহ্নিত হয়নি। মারকাজের সমাবেশে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ায় তাদের কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়। মধ্য প্রদেশে গ্রেপ্তার হওয়ারাও তাদের সঙ্গে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমে এই খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরানের সঙ্গে বুধবার বিকেলে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। মধ্য প্রদেশে ১০ জনের আটকের বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই বলে তিনি জানান।

মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ভারত সরকার এরই মধ্যে নিজামুদ্দিন এলাকার মারকাজের সমাবেশ অংশ নেওয়া ৯৬০ জন বিদেশিকে কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের ভিসা বাতিল করেছে। মারকাজের সমাবেশে অংশ নেওয়া প্রায় একশ বাংলাদেশিকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল ভারত সরকার। এরই মধ্যে তাদের কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে তাদের বিষয়ে সবশেষ তথ্য জানানো হয়নি।

এ দিকে ভারতের কূটনীতিক সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজামুদ্দিন এলাকার মারকাজের সমাবেশে অংশ নেওয়া ওই একশ ছাড়াও তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশের আরও একশ সদস্য এ মুহূর্ত ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন।
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এ মাসের প্রথম দিকে জানানো হয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের তাবলিগ জামাতের সাড়ে চারশরও বেশি সদস্য ভারতে গিয়েছেন।

পিটিআইয়ের এক খবরে বলা হয়েছে, ভারত নিজামুদ্দিন এলাকার মারকাজের সমাবেশে অংশ নেওয়া যে ৯৬০ জন বিদেশি তাবলিগ জামাত সদস্যকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ৩৭৯ জন, বাংলাদেশের ১১০ জন, কিরগিজস্তানের ৭৭ জন, মালয়েশিয়ার ৭৫ জন, থাইল্যান্ডের ৬৫ জন, মিয়ানমারের ৬৩ জন, শ্রীলঙ্কার ৩৩ জন, ভিয়েতনামের ১২ জন, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের ৯ জন করে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ জন ও ফ্রান্সের ৩ জন নাগরিক রয়েছেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাবলিগ জামাতে অংশ নেওয়া বিদেশিরা এখন কোথায় অবস্থান করছেন সেটা খুঁজে বের করতে দিল্লি পুলিশ ও অন্য রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে। এরপর ওই বিদেশিদের বিরুদ্ধ ফরেনার্স অ্যাক্ট ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

NSBDNEWS

nsbd.news.blog

করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন কিনা, জানিয়ে দেবে স্মার্টফোন

সম্প্রতি কোনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন কিনা তা ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেবে স্মার্টফোন। এমন একটি প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাচ্ছে অ্যাপল ও গুগল। প্রযুক্তি বিশ্বের এই দুই মহারথির যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কোনও অ্যাপস ডাউনলোড ছাড়াই একজন ব্যবহারকারী এই সেবা নিতে পারবেন। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রেখেই এই সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডাটা প্রটেকশন সুপারভাইজারও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।

অ্যাপল ও গুগলের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই উদ্যোগের চূড়ান্ত গুরুত্ব হলো গোপনীয়তা, স্বচ্ছতা ও সম্মতি। আর আগ্রহী অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা এটি কর্মক্ষম করার দিকে তাকিয়ে আছি। অন্যদের বিশ্লেষণের জন্য আমরা আমাদের কাজ খোলামেলাভাবে প্রকাশ করবো।’

অ্যাপল ও গুগলের বিশ্বাস, স্বেচ্ছায় এই প্রযুক্তি গ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করা যাবে। ব্যবহারকারীর কন্ট্রাক ট্রেসিং (যোগাযোগ শনাক্ত) পদ্ধতিতে ব্যবহার হবে স্মার্টফোনের ব্লুটুথ সিগনাল। এর মাধ্যমেই সম্প্রতি ব্যবহারকারীকে আক্রান্তের ঝুঁকিতে ফেলার মতো কাছাকাছি আসা ব্যক্তিকে শনাক্ত করবে ওই প্রযুক্তি। পরে সান্নিধ্যে আসা কোনও ব্যক্তির করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর কাছে সংকেত পাঠানো হবে। এই প্রযুক্তিতে কোনও জিপিএস লোকেশন তথ্য বা ব্যক্তিগত তথ্য রেকর্ড করা হবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে দেখার জন্য তার প্রশাসনের সময় প্রয়োজন। হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটা খুবই আগ্রহ উদ্দীপক কিন্তু ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রশ্নে অনেকেই এনিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ‘আমরা এটা খুব কঠোরভাবে খতিয়ে দেখতে যাচ্ছি। আর খুব শিগগিরই এবিষয়ে জানাতে পারবো।’

তবে এর চেয়ে বেশি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের ডাটা প্রটেকশন সুপারভাইজার। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগের আরও মূল্যায়নের দরকার। তবে খুব দ্রুত দেখার পরেও মনে হয়েছে এটা সঠিক পথে এগুচ্ছে।’ তবে অনেকেই বলছেন এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করতে পারে যথেষ্ট মানুষের করোনা পরীক্ষার ওপর।

আইওএস অপারেটিং সিস্টেসের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান অ্যাপল আর অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের নেপথ্যের প্রতিষ্ঠান গুগল। এই দুই অপারেটিং সিস্টেমই বিশ্বের বেশিরভাগ স্মার্টফোনে ব্যবহার হয়।।

সিঙ্গাপুর, ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পোলান্ডের মতো কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে মানুষের ফোন ব্যবহার করে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সতর্কতা পাঠাচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যম ফ্রান্স, ও জার্মানির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও নিজস্ব উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিউনিসিপ্যাল সরকার তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করে মানুষকে সতর্ক করছে।

তবে গুগল ও অ্যাপল যে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে তাতে মানুষ বিদেশে ভ্রমণ বা অন্য যে কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার সময়েও কাজ করতে থাকবে।

এই উদ্যোগ নিয়ে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কাজ করছে গুগল। তবে শুক্রবারের আগে তা প্রকাশ করা হয়নি। এই উদ্যোগ সফল হলে বহু দেশের লকডাউন প্রত্যাহার ও সীমান্তে কড়াকড়ি শিথিলের জন্য সহায়ক হবে।

NSBDNEWS

nsbd.news.blog

করোনা থেকে নিজেকে বাছাইতে এক বার হলেও পডুন।যা করে ভিয়েতমামের নাগরিকগন সফুল্য অর্জন করলো,,

স্বদিচ্ছা আর পরিকল্পনা থাকলে করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারিকেও যে রুখে দেয়া যায় তার দৃষ্টান্ত রাখলো ভিয়েতনাম।চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের মহামারিতে পুরো বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত তখন তাদের প্রতিবেশি দেশ ভিয়েতনাম দারুনভাবে প্রাণঘাতি এই মহামারিকে রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে।গত ২৩শে এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে করোনাভাইরাসে মৃত মানুষের সংখ্যা ছিল শূণ্য। আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬৮।

ভিয়েতনামের এই সাফল্যের কারণ বোঝার চেষ্টা করেছেন দুজন গবেষক: লন্ডনের কিংস কলেজের পলিটিক্যাল ইকনমির সিনিয়র লেকচারার রবিন ক্লিংগার-ভিড্রা এবং ইউনিভার্সিটি অব বাথের পিএইচডি গবেষক বা-লিন ট্রান।

ডিজাইনার মাস্ক: ভিয়েতনামে করোনাভাইরাসের ব্যাপারে শুরু থেকেই ভালোভাবে সতর্ক করে দিয়েছিলো সরকার।ছবি: জেটি ইমেজ

এই দুই গবেষক তাদের অনুসন্ধানের ফল প্রকাশ করেছেন গ্লোবাল পলিসি জার্নালে।

তারা ভিয়েতনামের এই সাফল্যের জন্য মূলত কয়েকটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করছেন:

কঠোর স্ক্রিনিং এর ব্যবস্থা:

প্রথমত, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ভিয়েতনাম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিয়েছিলো। তাদের সব বিমানবন্দরে যাত্রীদের কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করা হয়েছিল। বিমানবন্দরে এসে নামা যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হতো এবং তাদেরকে একটি স্বাস্থ্য-ফর্ম পূরণ করতে হতো। সেই ফর্মে যাত্রীদের উল্লেখ করতে হতো তারা কার কার সংস্পর্শে এসেছে, কোথায় কোথায় গিয়েছে।

ভিয়েতনামে এধরণের কঠোর ব্যবস্থা এখনো চালু আছে। ভিয়েতনামের যেকোনো বড় শহরে ঢুকতে বা সেখান থেকে বেরোতে গেলে এসব তথ্য এখনো জানাতে হয়। কোন সরকারি দপ্তরে বা হাসপাতালে ঢুকতে গেলেও এসব তথ্য দিতে হয়।

কারো শরীরের তাপমাত্রা যদি ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকে তখন তাকে সাথে সাথে নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। স্বাস্থ্য ফর্মে যারা ভুল তথ্য দিয়েছে বলে প্রমাণিত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এর পাশাপাশি প্রথম থেকেই দেশজুড়ে টেস্টিং এবং কনট্যাক্ট ট্রেসিং (আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে কারা কারা এসেছিল) এর ব্যবস্থা নিয়েছিল ভিয়েতনাম। কোন এলাকায় মাত্র একটি সংক্রমণ ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।

কঠোর কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা

ভিয়েতনামে দ্বিতীয় যে বিষয়টির ওপর জোর দেয়া হয়েছিল সেটা হচ্ছে টার্গেট করে করে কঠোর কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা চালু করা।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে যে সমস্ত ভিয়েতনামী নাগরিক বিদেশ থেকে ফিরেছে তাদেরকে আসার পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়েছে এবং কোভিড-নাইনটিনের জন্য টেস্ট করা হয়েছে। ভিয়েতনামে আসা বিদেশিদের বেলাতেও এই একই নীতি নেয়া হয়।

ভিয়েতনামে কোভিড-নাইনটিনের টেস্ট করাতে আসা মানুষ দূরত্ব বজায় রেখে অপেক্ষা করছে

দেশের ভেতরেও একটি বড় নগরী থেকে আরেকটি বড় নগরীতে যেতে হলে সেখানে একই ধরণের কোয়ারেন্টিনের নীতি চালু রয়েছে।

বড় বড় শহরগুলোর মধ্যে যাতায়াত এখনো খুবই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

কেউ যদি কোন শহরের স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তিনি যদি সেখানে ঢুকতে চান, তাকে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকতেই হবে। এবং সেটা হতে হবে সরকার অনুমোদিত কোন একটি স্থাপনায়। এর খরচ তাদের নিজেকেই বহন করতে হবে।

জনগণের কাছে সফলভাবে তথ্য পৌঁছে দেয়া

ভিয়েতনামের সাফল্যের জন্য গবেষকরা তৃতীয় যে বিষয়টির উল্লেখ করছেন, সেটি হচ্ছে তাদের সফল কমিউনিকেশন। শুরু থেকেই সরকার এই ভাইরাসটি যে কতো মারাত্মক সে ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন এবং তাদের বার্তাটি ছিল স্পষ্ট।

কোভিড-নাইনটিন শুধু একটা খারাপ ধরনের ফ্লু নয়, তার চাইতেও মারাত্মক কিছু এবং জনগণকে তারা পরামর্শ দিয়েছিল কোনভাবেই যেন তারা নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে।

সরকার বেশ সৃজনশীল কিছু কৌশল নিয়েছিল জনগণের কাছে করোনাভাইরাসের বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য।

প্রতিদিন সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে তথ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সব মানুষের মোবাইল ফোনে টেক্সট পাঠানো হতো করোনাভাইরাসের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে। এর পাশাপাশি সরকারি প্রচারণা তো ছিলই।

ভিয়েতনামের সব শহরে পোস্টার লাগানো হয়েছে এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে তাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে।

এই গবেষকরা বলছেন, ভিয়েনাম যেভাবে করোনাভাইরাসের মোকাবেলা করছে সেটি হয়তো উদারনৈতিক রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে যায় না, কিন্তু এটি ভিয়েতনামে কাজ করছে।

তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিটি আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। কাজেই ভিয়েতনাম অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটা উদাহারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

NSBDNEWS

nsbd.news.blog

The United States is not involved in the global corona vaccine initiative

The US dispute with the World Health Organization (WHO) is not going to stop soon. The country has also announced that it is not in the process of developing a coronavirus (Cavid-19) vaccine after the suspension of financial aid.

The United States has announced that it has cut off funding to the World Health Organization (WHO) for failing to prevent coronavirus infection. Not only that, but the country’s foreign minister Mike Pompeo has also indicated that he will leave the organization altogether. This time the country announced that it is not even in the initiative to make a vaccine for coronavirus.

The World Health Organization (WHO) said on Friday that an initiative had been taken by world leaders and corporate leaders to develop a new coronavirus antidote and effective Covid-19 treatment. But soon after, the United States announced that it was not with the global initiative.

In a statement, WHO chief Tedros Adhanam Gabrieus said: “This is a very important initiative to treat, test and develop, distribute and distribute a safe and effective vaccine for Cavid-19.”

He said, “Our initiative is aimed at ensuring that all people have the opportunity to use all the weapons in our hands in the fight against Kavid-19.” We all face the same threat, which requires a concerted effort to overcome. “

Following the announcement, the US envoy to Geneva said, “The United States will not participate in this initiative. But we will keep an eye on this initiative. ‘

NSBDNEWS

nsbd.news.blog

আজ থেকে করোনার ওষুধ বাজারজাত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

 
সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছে মার্কিন চীনা গবেষকরা। আবিষ্কৃত ওষুধ প্রয়োগ করে করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হওয়ার দাবি করেছে দুই দেশই।ওষুধটি প্রাথমিক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন।

অন্যদিকে ফ্যাপিলাভির নামে আরেকটি অ্যান্টিভাইরাল নভেল করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে চীন। চীনের ঝেঝিয়াং প্রদেশের সরকার ফ্যাপিলাভির অ্যান্টিভাইরালটি বাজারজাতকরণের অনুমতি দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের এটিই প্রথম কোনো প্রতিষেধক যা দেশটির ন্যাশনাল মেডিকেল প্রোডাক্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনেরও অনুমোদন পেয়েছে।

গত ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়। তবে তার চিকিৎসা শুরু হয় স্নোহোমিশ হেলথ ডিস্ট্রিক্টে। ওই হাসপাতালে অ্যাডিসন এবং উইলকারসনসহ কয়েকজন দক্ষ ডাক্তারকে নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়।

অ্যাডিসনের দলটি হাসপাতালে বায়োহ্যাজার্ড টিম আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করে। করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

অ্যাডিসন বলেন, ‘ইন্ট্রাভেনাসের থেরাপি দেয়ার মতো আমরা প্রতিদিন যা যা করছিলাম তাতে মনে হচ্ছিল যে, অবস্থা বেশ জটিল। আমাদের দুই জোড়া গ্লাভস পরতে হচ্ছিল। এটা তো ছিল ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের কাজ। কিন্তু আমাদের সব করতে হচ্ছিল। এমন সুরক্ষিত পোশাক-পরিচ্ছেদ আমাদের শিরাগুলোকেও মুক্তি দিচ্ছিল না।’

রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের চিকিৎসকদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করে ওই বিভাগের প্রধান যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ওষুধ প্রশাসনের কাছ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘রেমডেসিভির’ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োগের অনুমোদন পান। অনুমতি পাওয়ার পর তারা করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে পরীক্ষামূলকভাবে একটি অ্যান্টিভাইরালের ব্যবহার শুরু করে। ওষুধটি তৈরি করে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক গিলিড ফার্মাসিটিউক্যালস।

ওই চিকিৎসক দলের প্রধান ছিলেন দিয়াজ নামে এক ডাক্তার। তিনি বলেন, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি যে অ্যান্টিভাইরাল ব্যবহারের অনুমোদন পান তা ওই রোগীর ওপর প্রয়োগের কয়েক দিন পর তার জ্বর কমতে শুরু করে এবং তিনি সুস্থ বোধ করেন। জানুয়ারি ৩১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই রোগী বাড়ি ফেরেন।

মার্কিন এ চিকিৎসক বলেন, ‘এটাই করোনাভাইরাসের চিকিৎসা হিসেবে প্রথম এবং একমাত্র সফলতা হলেও এ পদ্ধতি যে কাজ করছে তা বেশ ভালোই বোঝা যাচ্ছে।’

NSBDNEWS

nsbd.news.blog