তাবলিগ জামাতের ১০ বাংলাদেশি ভারতে আটক

ভারতের দিল্লিতে নিজামুদ্দিন এলাকার তাবলিগ জামাতের মারকাজ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ওই সমাবেশে অংশ নেওয়া দুইশরও বেশি বিদেশিকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে ছিলেন ৭৩ জন বাংলাদেশি। এই ৭৩ জনের ১০ জন কোয়ারেন্টিন (সঙ্গনিরোধ) শেষে মধ্য প্রদেশের শিওপুর শহরে যাওয়ার পর স্থানীয় পুলিশের হাতে আটক হন। বাকি ৬৩ জনের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত মঙ্গলবার শিওপুরে আটক ১০ তাবলিগ জামাত সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কোনো তথ্য না জানিয়ে মধ্য প্রদেশের শহরটিতে অবস্থান করছিলেন। ভারত সরকার এরই মধ্যে তাবলিগের সমাবেশে অংশ নেওয়া ৯৬০ জন বিদেশিকে কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের ভিসা বাতিল করেছে। আটক ১০ বাংরাদেশিও ওই তালিকায় রয়েছেন।

বুধবার শিওপুরের পুলিশ সুপার সম্পাত উপাধ্যায়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএনআই এবং নিউজ১৮ এ খবর জানায়।
নিউজ১৮ এর খবরটিতে বলা হয়েছে, নিজামুদ্দিন এলাকার মারকাজে (তাবলিগের প্রধান কেন্দ্র) অংশ নেওয়া ১২ জনকে গত মঙ্গলবার আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন কলকাতার এবং বাকি ১০ জন বাংলাদেশের বাসিন্দা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অবস্থানের অভিযোগে মূলত এদের আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তাবলিগ জামাতের মধ্য প্রদেশের তিন বাসিন্দাকেও আটক করা হয়েছে।

সম্পাত উপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ১০ এবং কলকাতা তাবলিগ জামাতের দুই সদস্যের নমুনা পরীক্ষার পর তাদের দেহে আর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চিহ্নিত হয়নি। মারকাজের সমাবেশে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ায় তাদের কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়। মধ্য প্রদেশে গ্রেপ্তার হওয়ারাও তাদের সঙ্গে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমে এই খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরানের সঙ্গে বুধবার বিকেলে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। মধ্য প্রদেশে ১০ জনের আটকের বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই বলে তিনি জানান।

মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ভারত সরকার এরই মধ্যে নিজামুদ্দিন এলাকার মারকাজের সমাবেশ অংশ নেওয়া ৯৬০ জন বিদেশিকে কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের ভিসা বাতিল করেছে। মারকাজের সমাবেশে অংশ নেওয়া প্রায় একশ বাংলাদেশিকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল ভারত সরকার। এরই মধ্যে তাদের কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে তাদের বিষয়ে সবশেষ তথ্য জানানো হয়নি।

এ দিকে ভারতের কূটনীতিক সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজামুদ্দিন এলাকার মারকাজের সমাবেশে অংশ নেওয়া ওই একশ ছাড়াও তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশের আরও একশ সদস্য এ মুহূর্ত ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন।
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এ মাসের প্রথম দিকে জানানো হয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের তাবলিগ জামাতের সাড়ে চারশরও বেশি সদস্য ভারতে গিয়েছেন।

পিটিআইয়ের এক খবরে বলা হয়েছে, ভারত নিজামুদ্দিন এলাকার মারকাজের সমাবেশে অংশ নেওয়া যে ৯৬০ জন বিদেশি তাবলিগ জামাত সদস্যকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ৩৭৯ জন, বাংলাদেশের ১১০ জন, কিরগিজস্তানের ৭৭ জন, মালয়েশিয়ার ৭৫ জন, থাইল্যান্ডের ৬৫ জন, মিয়ানমারের ৬৩ জন, শ্রীলঙ্কার ৩৩ জন, ভিয়েতনামের ১২ জন, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের ৯ জন করে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ জন ও ফ্রান্সের ৩ জন নাগরিক রয়েছেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাবলিগ জামাতে অংশ নেওয়া বিদেশিরা এখন কোথায় অবস্থান করছেন সেটা খুঁজে বের করতে দিল্লি পুলিশ ও অন্য রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে। এরপর ওই বিদেশিদের বিরুদ্ধ ফরেনার্স অ্যাক্ট ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

NSBDNEWS

nsbd.news.blog

করোনা থেকে নিজেকে বাছাইতে এক বার হলেও পডুন।যা করে ভিয়েতমামের নাগরিকগন সফুল্য অর্জন করলো,,

স্বদিচ্ছা আর পরিকল্পনা থাকলে করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারিকেও যে রুখে দেয়া যায় তার দৃষ্টান্ত রাখলো ভিয়েতনাম।চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের মহামারিতে পুরো বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত তখন তাদের প্রতিবেশি দেশ ভিয়েতনাম দারুনভাবে প্রাণঘাতি এই মহামারিকে রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে।গত ২৩শে এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে করোনাভাইরাসে মৃত মানুষের সংখ্যা ছিল শূণ্য। আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬৮।

ভিয়েতনামের এই সাফল্যের কারণ বোঝার চেষ্টা করেছেন দুজন গবেষক: লন্ডনের কিংস কলেজের পলিটিক্যাল ইকনমির সিনিয়র লেকচারার রবিন ক্লিংগার-ভিড্রা এবং ইউনিভার্সিটি অব বাথের পিএইচডি গবেষক বা-লিন ট্রান।

ডিজাইনার মাস্ক: ভিয়েতনামে করোনাভাইরাসের ব্যাপারে শুরু থেকেই ভালোভাবে সতর্ক করে দিয়েছিলো সরকার।ছবি: জেটি ইমেজ

এই দুই গবেষক তাদের অনুসন্ধানের ফল প্রকাশ করেছেন গ্লোবাল পলিসি জার্নালে।

তারা ভিয়েতনামের এই সাফল্যের জন্য মূলত কয়েকটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করছেন:

কঠোর স্ক্রিনিং এর ব্যবস্থা:

প্রথমত, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ভিয়েতনাম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিয়েছিলো। তাদের সব বিমানবন্দরে যাত্রীদের কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করা হয়েছিল। বিমানবন্দরে এসে নামা যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হতো এবং তাদেরকে একটি স্বাস্থ্য-ফর্ম পূরণ করতে হতো। সেই ফর্মে যাত্রীদের উল্লেখ করতে হতো তারা কার কার সংস্পর্শে এসেছে, কোথায় কোথায় গিয়েছে।

ভিয়েতনামে এধরণের কঠোর ব্যবস্থা এখনো চালু আছে। ভিয়েতনামের যেকোনো বড় শহরে ঢুকতে বা সেখান থেকে বেরোতে গেলে এসব তথ্য এখনো জানাতে হয়। কোন সরকারি দপ্তরে বা হাসপাতালে ঢুকতে গেলেও এসব তথ্য দিতে হয়।

কারো শরীরের তাপমাত্রা যদি ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকে তখন তাকে সাথে সাথে নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। স্বাস্থ্য ফর্মে যারা ভুল তথ্য দিয়েছে বলে প্রমাণিত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এর পাশাপাশি প্রথম থেকেই দেশজুড়ে টেস্টিং এবং কনট্যাক্ট ট্রেসিং (আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে কারা কারা এসেছিল) এর ব্যবস্থা নিয়েছিল ভিয়েতনাম। কোন এলাকায় মাত্র একটি সংক্রমণ ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।

কঠোর কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা

ভিয়েতনামে দ্বিতীয় যে বিষয়টির ওপর জোর দেয়া হয়েছিল সেটা হচ্ছে টার্গেট করে করে কঠোর কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা চালু করা।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে যে সমস্ত ভিয়েতনামী নাগরিক বিদেশ থেকে ফিরেছে তাদেরকে আসার পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়েছে এবং কোভিড-নাইনটিনের জন্য টেস্ট করা হয়েছে। ভিয়েতনামে আসা বিদেশিদের বেলাতেও এই একই নীতি নেয়া হয়।

ভিয়েতনামে কোভিড-নাইনটিনের টেস্ট করাতে আসা মানুষ দূরত্ব বজায় রেখে অপেক্ষা করছে

দেশের ভেতরেও একটি বড় নগরী থেকে আরেকটি বড় নগরীতে যেতে হলে সেখানে একই ধরণের কোয়ারেন্টিনের নীতি চালু রয়েছে।

বড় বড় শহরগুলোর মধ্যে যাতায়াত এখনো খুবই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

কেউ যদি কোন শহরের স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তিনি যদি সেখানে ঢুকতে চান, তাকে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকতেই হবে। এবং সেটা হতে হবে সরকার অনুমোদিত কোন একটি স্থাপনায়। এর খরচ তাদের নিজেকেই বহন করতে হবে।

জনগণের কাছে সফলভাবে তথ্য পৌঁছে দেয়া

ভিয়েতনামের সাফল্যের জন্য গবেষকরা তৃতীয় যে বিষয়টির উল্লেখ করছেন, সেটি হচ্ছে তাদের সফল কমিউনিকেশন। শুরু থেকেই সরকার এই ভাইরাসটি যে কতো মারাত্মক সে ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন এবং তাদের বার্তাটি ছিল স্পষ্ট।

কোভিড-নাইনটিন শুধু একটা খারাপ ধরনের ফ্লু নয়, তার চাইতেও মারাত্মক কিছু এবং জনগণকে তারা পরামর্শ দিয়েছিল কোনভাবেই যেন তারা নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে।

সরকার বেশ সৃজনশীল কিছু কৌশল নিয়েছিল জনগণের কাছে করোনাভাইরাসের বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য।

প্রতিদিন সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে তথ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সব মানুষের মোবাইল ফোনে টেক্সট পাঠানো হতো করোনাভাইরাসের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে। এর পাশাপাশি সরকারি প্রচারণা তো ছিলই।

ভিয়েতনামের সব শহরে পোস্টার লাগানো হয়েছে এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে তাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে।

এই গবেষকরা বলছেন, ভিয়েনাম যেভাবে করোনাভাইরাসের মোকাবেলা করছে সেটি হয়তো উদারনৈতিক রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে যায় না, কিন্তু এটি ভিয়েতনামে কাজ করছে।

তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিটি আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। কাজেই ভিয়েতনাম অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটা উদাহারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

NSBDNEWS

nsbd.news.blog